কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি আগুনের ঝুঁকি শনাক্ত করার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং দুর্ঘটনার পর তৎপরতা দেখিয়ে পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের চার মাস আগেই রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছিল। তবু সেখানে পর্যটকেরা রাত কাটিয়েছেন। প্রশ্ন তাই শুধু আগুন কোথা থেকে লাগল নয়—যে বিপদের কথা প্রশাসন আগেই জানত, সেটি ঠেকানো গেল না কেন?

আগুনে পুড়ে ছাই রিসোর্ট, প্রাণ গেল ১০ জনের

১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ ভবনের দুটি শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়। আগুনের সময় অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি; রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তদন্তের আগে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিপদের কথা জানত ফায়ার সার্ভিস, তবু বন্ধ হলো না রিসোর্ট

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর তথ্যটি দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটির মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত জুনে একজন পরিদর্শক রিসোর্টটি পরিদর্শন করেন। ১১ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নোটিশও দেওয়া হয়। এরপরও প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই রিসোর্টটি চালু ছিল বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, আগুনের সতর্কসংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল।

অর্থাৎ, এই বিপদ সম্পূর্ণ অজানা ছিল না। আগুন লাগার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হয়েছিল, সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। তবু পর্যটকদের সেখানে থাকার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? নোটিশ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? কর্তৃপক্ষের কাছে কি পরবর্তী পরিদর্শনের প্রতিবেদন আছে? ঝুঁকি দূর না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুকে শুধু অনিবার্য দুর্ঘটনা বলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নোটিশের পরও ব্যবসা চললে সতর্কবার্তার মূল্য কী?

অগ্নিনিরাপত্তার নিয়মের উদ্দেশ্য শুধু কাগজে লাইসেন্স রাখা নয়; আগুন লাগলে মানুষ যাতে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটি নিশ্চিত করা। বিশেষ করে কাঠের মতো সহজে দাহ্য উপকরণে তৈরি ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস আগুনের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর শুধু নোটিশ দিয়েই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? ঝুঁকি দূর হয়েছে কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব কার? প্রতিষ্ঠানটি সতর্কবার্তা অমান্য করলে কে তা বন্ধ করবে? আর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা চলতে থাকলে তার জবাবদিহি কাকে করতে হবে?

তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসা দরকার। রিসোর্টের মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায় যেমন খতিয়ে দেখতে হবে, তেমনি সতর্কবার্তার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী ঘোষণা নয়; বরং যার যে দায়িত্ব ছিল, তা পালন করা হয়েছিল কি না—সেটি নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

বেইলি রোডের পরও বদলাল না পরিস্থিতি

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে তদন্তে উঠে আসে, ভবনটিতে রেস্তোরাঁ চালানোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না এবং অনুমোদিত নকশায় জরুরি নির্গমনপথ থাকলেও বাস্তবে তা তৈরি করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিস আগেই ঝুঁকির বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছিল বলে সে সময় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার পর রাজধানীতে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ভবনে অভিযান চলে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়, জরিমানা করা হয়, কাগজপত্র যাচাইয়ের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইলি রোডের ঘটনার পর বন্ধ হওয়া অনেক খাবারের দোকান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার কার্যক্রম শুরু করে; বিভিন্ন ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিও রয়ে যায়। অর্থাৎ, অভিযান হয়েছিল, কিন্তু সব ক্ষেত্রে নিয়ম মানানো স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বেইলি রোডের পর কক্সবাজারের ঘটনা তাই বিচ্ছিন্ন দুটি দুর্ঘটনার তুলনা মাত্র নয়। দুটির মধ্যে বড় প্রশ্নটি একই—ঝুঁকি শনাক্ত করা, নিয়ম প্রয়োগ করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে কি না। দুর্ঘটনার পর অভিযান চালানো সহজ; দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিরাপদ করা অথবা প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া কঠিন, কিন্তু সেটিই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।

নিয়ম আছে, প্রয়োগ কোথায়?

বাংলাদেশে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য আইন ও বিধিমালা রয়েছে। অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এবং অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধিমালা, ২০১৪ এর অংশ। ভবন নির্মাণ, ব্যবহার ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নকশা, অনুমোদন এবং ভবনবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সমস্যা শুধু নিয়মের অভাব নয়; নিয়ম মানানো, নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তা নিয়মিত যাচাই করার ধারাবাহিকতায় দুর্বলতা থাকলে কাগজে থাকা বিধান মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে না।

হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তা একটি কাগজ বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবনের ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সতর্কসংকেত, নিরাপদ বের হওয়ার পথ, জরুরি আলোকব্যবস্থা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত মহড়ার প্রয়োজন হতে পারে। অতিথিরা রাতে ঘুমিয়ে থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য কর্মীদের প্রস্তুতি ও বাস্তবসম্মত উদ্ধার পরিকল্পনাও জরুরি।

লাইসেন্স বা ছাড়পত্র যাচাই ছাড়াই যদি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালাতে পারে, পরিদর্শনে ঝুঁকি ধরা পড়লেও যদি সেই ঝুঁকি দূর না করা হয়, তাহলে সমস্যাটি শুধু অসচেতন মালিকের নয়; এটি তদারকি ব্যবস্থারও সমস্যা। তবে কক্সবাজারের প্রতিটি হোটেল বা রিসোর্ট অনিরাপদ—এমন সাধারণীকরণেরও ভিত্তি নেই। প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিদর্শন ও যাচাইযোগ্য তথ্য, যেন নিরাপদ প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ম ভাঙা প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়।

আগুনের পর আবার অভিযান—তারপর?

টুপটুপ রিসোর্টের ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থাপককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পর্যটনমন্ত্রীও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং কর্মীদের আগুন প্রতিরোধ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। কিন্তু আগের অভিজ্ঞতা বলছে, কেবল তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক অভিযান বা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। এবারও যদি কয়েক দিন তৎপরতার পর নজরদারি থেমে যায়, তাহলে পরবর্তী দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই বদলাবে না।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত কক্সবাজারের হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোর একটি প্রকাশ্য নিরাপত্তা তালিকা তৈরি করা। কোন প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন আছে, কোথায় কী ঘাটতি পাওয়া গেছে, কোন প্রতিষ্ঠানকে সময় বেঁধে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে—এসব তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন। ঝুঁকি দূর করার পর পুনঃপরিদর্শন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ঘোষণা করা যাবে না। আর নোটিশ অমান্য করে ব্যবসা চালু রাখার ঘটনা প্রমাণিত হলে শুধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করতে হবে।

পর্যটকের নিরাপত্তা শুধু ব্যবসায়ীর দায় নয়

পর্যটকেরা একটি রিসোর্ট বেছে নেন সেখানে থাকার জন্য, বিপদের মুখে পড়ার জন্য নয়। তাঁরা সাধারণত জানেন না ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে কি না, জরুরি নির্গমনপথ কার্যকর কি না বা কর্মীরা আগুন লাগলে কী করবেন। এসব যাচাই করা ব্যক্তিগত পর্যটকের দায়িত্ব হতে পারে না; এর জন্যই অনুমোদনব্যবস্থা, পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে।

তবে সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। হোটেল ও রিসোর্টে ওঠার পর জরুরি নির্গমনপথ কোথায়, আগুনের সতর্কসংকেত কীভাবে দেওয়া হয় এবং বিপদের সময় কোন পথে বের হতে হবে—অতিথিদের তা জানানো উচিত। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ থাকা দরকার। কিন্তু মানুষের সতর্কতার ওপর সব দায় চাপিয়ে রাষ্ট্রীয় নজরদারির ব্যর্থতা আড়াল করা যাবে না।

দায় নির্ধারণ, শুধু শোক প্রকাশ নয়

দশটি প্রাণ হারানোর পর শোক প্রকাশ, তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিরাপত্তা অভিযান—সবই প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া। কিন্তু জনস্বার্থে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, তদন্তের ফল প্রকাশ করা এবং আগুনের কারণের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। জুনে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়ে থাকলে তার পর কী হয়েছিল? রিসোর্টের অনুমোদন যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ঝুঁকি দূর করা হয়নি কেন? প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে পর্যটকদের সেখানে থাকার সুযোগ কীভাবে অব্যাহত ছিল? তদন্তে যার যে দায় প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সরাসরি মৃত্যুর জন্য দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ও আগের সতর্কবার্তার তথ্য নিজেই গুরুতর। তদন্তের মাধ্যমে এই ঘাটতিগুলো কীভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়েছে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

অনিয়ম যখন বারবার প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন সেটিকে আর বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আইন থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না হলে এবং প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পরই কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা গেলে, মানুষের জীবন রক্ষার ব্যবস্থাটি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

দেশকে আরেকটি আগুন, আরেকটি তদন্ত কমিটি কিংবা আরেকটি শোকবার্তার অপেক্ষায় রাখা যাবে না। এবার প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিদর্শন, প্রকাশ্য জবাবদিহি, নিয়মভঙ্গের কার্যকর বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দৃশ্যমান ব্যবস্থা। দুর্ঘটনার পর কে কত দ্রুত ছুটে এলেন, সেটিই প্রশাসনিক সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না; আসল পরীক্ষা হলো—যে বিপদ আগে থেকেই জানা ছিল, সেটি ঠেকাতে কী করা হয়েছিল।