চকরিয়া প্রতিনিধিঃ- কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে পৌর শহরের ফুটপাত ও সড়ক। এ সময় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৫ শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ ও সড়ক পরিবহন আইন,স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ভোক্তা অধিকার আইনের ৫ মামলায় ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে একটানা দুপুর এ অভিযান পরিচালনা করেন চকরিয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার। প্রশাসনের এ উচ্ছেদ অভিযানে পৌরবাসী ও সাধারণ জনগনের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম, চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান, চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা.লোকমান হাকিমসহ থানা পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। চকরিয়া উপজেলা ও পৌর প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও হকার পৌর শহরের ফুটপাত, সড়ক ও ড্রেনের উপর অবৈধ চৌকি, শেড ও মালামাল রেখে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এতে করে পৌরসভার নাগরিক ও দূর-দূরান্ত থেকে চকরিয়া পৌর সদরে আসা সাধারণ পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হয়। ফলে এসব পথচারীরা বাধ্য হয়ে প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করতো। যার ফলে চকরিয়া পৌর শহরে প্রায় সময় তীব্র যানজটের পাশাপাশি নানান দুর্ঘটনা সংগঠিত হতো। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে টনক নড়ে প্রশাসনের। অবশেষে বুধবার সকাল থেকে একটানা দুপুর পর্যন্ত চকরিয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গা বাজার, পুরাতন বিমানবন্দর সড়ক, ওযাপদা সড়ক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুই পাশে অভিযান চালিয়ে ৫ শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ পূর্বক পৌর সদরের ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও চকরিয়া পৌরসভা প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন,চকরিয়া পৌর সদরেরর ফুটপাত, সড়ক ও পানি নিস্কাশনের ড্রেন দখল করে কতিপয় ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এতে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়তে চরম ভূগান্তির শিকার হতে হয়। তিনি আরো বলেন, চলাচলের ক্ষেত্রে জনসাধারণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুরো চকরিয়া পৌরশহরকে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা হবে জানিয়ে পৌর প্রশাসক বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পর কেউ যেন পুনরায় ফুটপাত দখল করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন