রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় প্রায় চার মাস পর দুই এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। একই অভিযানে গ্রেফতারকৃত এক আসামির বসতবাড়ি থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত টাকার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে রাঙামাটি জেলার কোতয়ালী থানাধীন ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়নের আদার পাহাড় সংলগ্ন কাপ্তাই লেকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল এক ব্যক্তির কাঁধে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ব্যাগটিতে নগদ ৪ লাখ টাকা ছাড়াও একটি মোবাইল ফোন, সিম, ব্র্যাক ব্যাংকের অব্যবহৃত চেকবই, মানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের পর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ অভিযান চালায়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসীম উদ্দীন-এর নেতৃত্বে শনিবার একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গ্রেফতার করা হয় মামলার এজাহারনামীয় আসামি— ১. আহাম্মেদ সফি (৪৪), পিতা: মৃত আব্দুল জব্বার, ঠিকানা: আদার পাহাড়, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়ন, কোতয়ালী, রাঙামাটি। ২. তক্তারাম @ সুব্রত চাকমা (৩২), পিতা: দয়ালাল চাকমা, ঠিকানা: দেওয়ান পাড়া (পর্যটন এলাকা), ৪ নম্বর ওয়ার্ড, কোতয়ালী, রাঙামাটি। অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে গ্রেফতারকৃত তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বসতবাড়ি থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং লুণ্ঠিত অর্থ ও অন্যান্য মালামালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
কোতয়ালী থানা সূত্রে পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। গ্রেফতারকৃত ১ নম্বর আসামি আহাম্মেদ সফিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামি তক্তারাম @ সুব্রত চাকমার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন