চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ-কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহরণের ৪ ঘন্টা পর মহাসড়কের পাশ থেকে ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালা এলাকা থেকে চকরিয়া থানা পুলিশ ওই মরদেহটি উদ্ধার করে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে রোববার রাত ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের মাঝের পাড়া ষ্টেশন থেকে অপহৃত হয় ছাত্রদল নেতা জিসান। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে একদল অপহরণকারী রাতের আঁধারে জিসানকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মহাসড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় জিসানের মরদেহ।

নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে কাকারা ইউনিয়নের মাঝের পাড়া স্টেশনে অবস্থান করছিলেন ছাত্রদল নেতা জিসান। ১১টার দিকে হঠাৎ একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত নেমে ছাত্রদল নেতা জিসানকে জোর পূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। জিসানের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার ‘কবির টাওয়ারে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর মরদেহটি পাহাড়ি জনপদের মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে ছাত্রদল নেতা জিসানের অপহরণের খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়কে পাহারা বসানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় জিসানের খোঁজ খবর শুরু করে। অপরদিকে রাত আড়াইটার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অপর একটি গ্রুপ জড়ো হয়ে পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ভবনের প্রহরী তাদের বাঁধা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটিতে তল্লাশি চালায়। এরই মধ্যেই খবর আসে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় মহাসড়কের পাশে ইসফাতুল ইসলাম জিসানেে লাশ পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসানের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সেখানে তার মাথায়, গলায় ও কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কারা জিসানকে তুলে নিয়ে হত্যা করছে সে ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন নারী ও বাসার দারোয়ানকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত জিসানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।