নিজস্ব প্রতিনিধি,রাঙামাটিঃ- দীর্ঘ চার দশক ধরে উন্নত ও উন্নয়নমূখী সড়ক যোগাযোগের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ৪নং কলমপতি ইউনিয়নের ডাবন্যাছড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।বছরের পর বছর ধরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে বদলায়নি তাদের যাতায়াতের চিত্র। বরং বর্ষা এলেই কাদা,গর্ত আর ভাঙ্গাচুরা সড়কে দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বা আলোর মূখ দেখেনি। সর্বশেষ সড়ক উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দেখা দিয়েছে হতাশা। নিভে গেল ওই এলাকাবাসীর আশার প্রদীপ। ডাবন্যা মুখ থেকে ১নম্বর হাতিমারা,২ নম্বর হাতিমারা,কালাগাজী হয়ে বেতবুনিয়া চেহেরী বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি স্থানীয়দের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই রাস্তাটি।

‎ স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কটির দুই পাশে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে কাউখালী উপজেলা সদর,বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন। স্কুল- কলেজ শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী,চাকরি জীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল নির্ভর করে সড়কটির ওপর। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অপর্যাপ্ত উন্নয়নের কারণে সড়কটি এখন অনেকাংশেই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কাদায় পিচ্ছিল, কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের পাশ। বর্ষাকালে এসব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারী ও যানবাহনও।
‎
‎এলাকাটিতে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। অনেক পরিবার কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কিংবা অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া সব ক্ষেত্রেই এই সড়কের গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বেড়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনেও তৈরি হয় বিড়ম্বনা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের ভাষ্যমতে, একটি সড়কের দুরবস্থা শুধু চলাচলের সমস্যা তৈরি করে না,এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রায়।

‎স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের পর কাজ শুরু হলেও আনুমানিক ২০শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পর তা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। উন্নয়নের আশায় থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “সড়কটি আমাদের জন্য শুধু যাতায়াতের পথ নয়, এটি পুরো এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ।” তাদের প্রশ্ন, যদি উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কাজ মাঝপথে থেমে থাকার কারণ কী? কেন নির্ধারিত সময়ে সড়কটির উন্নয়ন শেষ হচ্ছে না? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে এলাকাবাসীকে? স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের আমলে উন্নয়নের কথা বলা হলেও প্রায় ৪০ বছরেও সড়কটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ব্যবধান ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

‎এলাকাবাসীর দাবি, ডাবন্যা মুখ থেকে বেতবুনিয়া চেহেরী বাজার পর্যন্ত পুরো সড়কটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় উন্নয়ন করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে সাময়িক সংস্কার না করে সড়কের স্থায়িত্ব, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর যথাযথ উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, সড়কটি উন্নত হলে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু, বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রশ্ন চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডাবন্যা সড়কের স্থায়ী উন্নয়ন কবে হবে?