মোস্তফা রাজু(নিজস্ব প্রতিবেদক)- রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে তলিয়ে গেছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু। গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুর পাটাতনে প্রায় চার ইঞ্চি পানি ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। তবে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও শুক্রবার ঝুলন্ত সেতু এলাকায় দেখা গেছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার ও আজ শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে এসেছেন। পর্যটকদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের সেতুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, এর আগে সেতুটি ভেসে ওঠার পর সেতুটি মেরামত করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে সেতুতে কোনো ঝুঁকি নেই। সরকারি ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসায় তাদের কথা বিবেচনা করে সেতুতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিগত ২৯ আগস্ট টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে গেলে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দিন দুপুর থেকেই পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। পরে হ্রদের পানি কমে গেলে ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ ভেসে ওঠে। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে গেলে প্রায়ই ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অনেক সময় সেতুতে ওঠার সুযোগ না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরতে হয়।

মন্তব্য করুন