বান্দরবান প্রতিনিধিঃ-বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি,অর্থের বিনিময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়া এবং কর্মচারীদের দালালির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগাযোগ নাম্বার নিয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা। অভিযোগকারীদের দাবি,অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাজু বড়ুয়া,অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষ রিক মো. মোস্তফা কামাল খান ও রেকর্ড কিপার নিউটন বড়ুয়াকে ঘিরে অফিসে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ গুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি অফিসে সেবা নিতে গেলে নানান ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। এ ছাড়া বান্দরবানের বাহিরের ব্যক্তিদের কাছ থেকেও অর্থের বিনিময়ে পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আবেদন,পরিচয় যাচাই য়ের নথি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মোটরসাইকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাজু বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সাজু বড়ুয়া গাড়ি চুরি হওয়ার আশঙ্কায় স্টিকারটি ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে মন্ত্রণালয়ের পরিচয়বাহী স্টিকার ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে কি না, স্টিকারটির উৎস কী এবং এটি বিধিসম্মতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ ,সাজু বড়ুয়া নিজেকে সাংবাদিক হিসেবেও পরিচয় দেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। তিনি কোন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কি না,যুক্ত থাকলে তাঁর দায়িত্ব কী এবং সরকারি চাকরির পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কোন বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাঁর বক্তব্য প্রয়োজন।
ওয়েবসাইটের যোগাযোগ নাম্বার নিয়েও প্রশ্ন বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একই ফোন নাম্বার ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের দাবি, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নাম্বার গুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না। সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একই নম্বর ব্যবহারের কারণ কী এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগ নম্বর গুলো নিয়মিত হালনাগাদ ও সচল রাখা হয় কি না। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য বা অভিযোগ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সহকারী পরিচালকের বক্তব্য,অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক সচিব কুমার আইনের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান,তাঁর অফিসের কেউ কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি তাঁকে জানাতে হবে।দালালি প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগ, সরাসরি সেবা নিতে হয়রানি, বাইরের ব্যক্তিদের পাসপোর্ট করে দেওয়ার অভিযোগ, কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং যোগা যোগব্যবস্থার দুর্বলতা।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পাসপোর্ট আবেদন ও পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য এবং অভিযুক্ত কর্মচারী দের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতাদের দাবি,অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে দালালের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট সেবা নিতে পারেন,তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন