সাজেক,(বাঘাইছড়ি) প্রতিনিধিঃ- রাঙামাটি জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে চলছে কঠোর অবরোধ। আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কাবর্বারি এসোশিয়েসন’এর ডাকা  অবরোধ কড়াকড়ি ভাবে চলছে। সড়কের মধ্যে গাছে গুড়ি ও ট্রায়ারে আগুন দিয়ে অবরোধ সফল করতে দেখা গেছে। কোন ধরনের যানবাহন চলছে না সড়কে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর,দীঘিনালা ও বাঘাইহাট বাজার থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে যানবাহন ছেড়ে যায়নি। অবরোধে বেশকিছু পর্যটক সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়ছে এমন সংবাদ শুনা গেলেও সঠিক পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাস ও উৎপাতের প্রতিবাদে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কাবর্বারি এসোশিয়েসন’এর ডাকা অবরোধ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। তবে  সকাল থেকে কোন ধরনের যানবাহ চলছে না।  কঠোর ভাবে অবরোধ পালিত হতে দেখা গেছে। আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি আমরা সাজেকে শান্তি চাই। আমরা হানাহানি ও গোলাগুলি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দেখতে চাই না। বাঘাইছড়ির বাঘাইহাট ও উজোবাজারে সহ বেশ কিছু স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে যানবাহনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, এই অবরোধে সাজেকে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি প্রতিদিনের মত স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় দুপুর ২টায়  সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হবে।

সূ্ত্রে জানা যায়, ৮ অক্টোবর আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীরা সরে যাওয়ার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠন ২টি।

উল্লেখ্য, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকের ভুয়োছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং এলাকার আশেপাশে অবস্থান নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে একজন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয়, সড়ক অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে সাজেক-সহ সকল সাধারণ ও পর্যটকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।একইসাথে সাজেক ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার সকল যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান।
অবরোধ চলাকালে জরুরী ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরী ঔষধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যান, সংবাদ সংগ্রহে কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি এই অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে নেতৃদ্বয় বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাদের নিজেদের সাংগঠনিক এলাকায় সরে গিয়ে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।