রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ- রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় ইমন দাশ (৩০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকার প্রবীর শীলের বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইমন দাশ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ব্রাহ্মণহাট অশ্বিনা পোস্টমাস্টার বাড়ির স্বপন কান্তি দাশের ছেলে।
নিহতের জেঠাতো ভাই কাঞ্চন দাশ জানান, মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে খবর দেওয়া হয়—ইমন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে দুলাল দে ও তনয় নামে দুই ব্যক্তি তাকে চিকিৎসার জন্য চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ রাউজানে নিয়ে দাহ করা হয় বলে জানান তিনি। চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ারের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, “ইমন দাশকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। পরে তার স্বজনরা ময়নাতদন্ত না করেই মরদেহ রাউজানে নিয়ে যান।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য শিমুল দাশ বলেন, “প্রবীর শীলের বাড়িতে ইমনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা হেলথ কেয়ারে নিয়ে যায় বলে জানতে পেরেছি। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” এদিকে, ইমনের সঙ্গে ওই বাড়ির যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। স্থানীয়ভাবে সুবর্ণা নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ইমনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে এ সম্পর্কের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আক্তারুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা প্রবীর শীলের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজন নারীকে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাহ করায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে নিহতের জেঠাতো ভাই কাঞ্চন দাশের দাবি, “ইমনের মরদেহ সৎকারের জন্য নেওয়ার সময় তার হাঁটু ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। তার মৃত্যুর ঘটনায় দুলাল দে ও তনয় নামে দুজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।” তবে নিহতের স্বজনের এই অভিযোগের বিষয়ে দুলাল দে, তনয় কিংবা প্রবীর শীলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ইমন দাশ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন, নাকি তার মৃত্যুতে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন