নিজস্ব প্রতিবেদক ,রাঙামাটি। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ২৩নং বগাচত্বর মৌজায় জাল জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজপত্রে এক বৃদ্ধের বসতবাড়ির জমি হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী হযরত আলী (৭৮) জানান, তাঁর মালিকানাধীন কবুলিয়াতের জায়গা থেকে ১০শতক বসত জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নিয়েছে একই এলাকার বাসিন্দা ভূমিদস্যু ইদ্রিস মৃধা (৪০)।
বৃদ্ধের দেওয়া অভিযোগ জানা গেছে,২৩ নং বগাচত্বর মৌজার হোল্ডিং নম্বর ৩২০-এর অধীনে হযরত আলীর মোট-১একর ৪৫ শতক কবুলিয়াতের জায়গা ছিল। সেখান থেকে তাঁর অজান্তেই ১০শতক জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন এই ইদ্রিস মৃধা। পরবর্তীতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে জবানবন্দির কপি তুললে হযরত আলী দেখতে পায়,তাঁর রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ কমে ১একর ৩৫ শতকে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী হযরত আলী বলেন, আমার নিজের রেকর্ডভুক্ত জায়গা থেকে আমার অজান্তে কীভাবে ১০ শতক জমি অন্যজনের নামে চলে গেল, তা আমার বোধগম্য নহে। এবিষয়ে সত্যতা প্রমাণে জিজ্ঞেস করতে ইদ্রিস মিধাকে মুঠোফোনে বা এমনিতেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই তার বক্তব্য দেওয়া হলো না। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে হযরত আলী রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত শুরু হলে ইদ্রিস মৃধা জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জমি ফেরৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি জমি বুঝিয়ে দেননি বলে জানান ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গত ৩০সেপ্টেম্বর লংগদু উপজেলা ভূমি অফিসের একটি তদন্ত দল সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তকালে ইদ্রিস মৃধার উপস্থাপিত সমস্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ভূমি অফিসের তদন্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্তে ইদ্রিস মৃধার কাগজপত্র ভুয়া ও জাল বলে সত্যতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ইদ্রিস মৃধার দাবি, হযরত আলী তাঁর কাছে ৫শতক জমি বিক্রি করে টাকা গ্রহণ করেছিলেন,কিন্তু পরবর্তীতে কাগজের হস্তান্তর সম্পন্ন করেননি।
তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানান, হযরত আলী ৫শতক জায়গা বিক্রি করেছিলেন এমন বিষয়টি তাঁদের জানা থাকলেও ১০শতক জমি কীভাবে ইদ্রিস মৃধা নিজের নামে ভুয়া কাগজ করে নিলেন, তা রহস্যজনক।একজনের বৈধ রেকর্ডভুক্ত জমি কীভাবে জালিয়াতি করে অন্যজনের নামে চলে যায় এবং ভুয়া দলিল তৈরি হয় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকার সেচতন মানুষ। তবে লংগদু উপজেলা ভূমি অফিস এর দায় এরাতে পারে না। এককথায় লংগদুতে যারা এসব ২নাম্বারি জাল জালিয়াতি করে তাদেরকে পুলিশ ও প্রশাসনের সবাই চিনে ও তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন মুঠোফোনে বলেন এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন