ঢাকা
১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৬জন উখিয়ার ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডঃ একই পরিবারের ৬জনসহ নিহত-১০ দীঘিনালায় ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার ঢেউটিন প্রদান ও বিহারে ভান্থেদের চিকিৎসা প্রদান ঈদগাঁওয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সাজেকের সিজকছড়ায় পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত-৭ ঈদগাঁওয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা আগুনের আগে সতর্কবার্তা, তবু খোলা ছিল রিসোর্ট: এই মৃত্যুর দায় কার? শান্তি সম্প্রীতির শারদীয় দুর্গাৎসবে পাশে আছি আমরা—স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ মিজানুর রহমান ঈদগাঁওয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ১৭ মন্ডপে আনসার-ভিডিপি শারদীয় দুর্গাপূজায় রুমা সার্বজনীন হরি মন্দিরে বিজিবির আর্থিক অনুদান

এনইআইআরের তৃতীয় উদ্যোগ:ফোনের দাম না কমালে অবৈধ সেট বন্ধ করা কতটা সম্ভব?

ইকবাল মুন্নার দৃষ্টিপাত
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬   ২০২ বার পঠিত   প্রিন্ট
এনইআইআরের তৃতীয় উদ্যোগ:ফোনের দাম না কমালে অবৈধ সেট বন্ধ করা কতটা সম্ভব?

অবৈধ মুঠোফোন শনাক্ত ও বন্ধ করতে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকর করার নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বিটিআরসি।  কিন্তু উচ্চ শুল্ক, বৈধ ও অনানুষ্ঠানিক ফোনের দামের বড় ব্যবধান এবং ব্যবহৃত ফোনের বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি—সব মিলিয়ে উদ্যোগটি আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে।

প্রশ্ন হলো, শুধু অবৈধ ফোন বন্ধ করেই কি সমস্যার সমাধান হবে, নাকি আগে বৈধ ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালে আনা জরুরি? অবৈধ মুঠোফোন আমদানি ও বিক্রি বন্ধ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো, চুরি যাওয়া ফোন শনাক্ত করা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এনইআইআর চালুর উদ্যোগ চলছে। কিন্তু প্রতিবারই বাস্তবায়নের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে যেমন রয়েছে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ ও বাজারের স্বার্থ, তেমনি রয়েছে বৈধ ফোনের উচ্চ মূল্য, করনীতি এবং দেশে ব্যবহৃত ও পুনর্নির্মিত ফোনের চাহিদার মতো বাস্তব সমস্যা। ফলে এবারও সাফল্য নির্ভর করবে শুধু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর ওপর নয়; বরং সরকার বাজারের এই সংকটগুলো কতটা সমাধান করতে পারে, তার ওপর।
তিনবার উদ্যোগের পরও কেন পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এনইআইআর-
মুঠোফোনের পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রতিটি সেটে থাকে আন্তর্জাতিক মোবাইল যন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর বা আইএমইআই। এনইআইআর হলো এমন একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার, যেখানে মুঠোফোনের আইএমইআই ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে কোনো সেট বৈধভাবে আমদানি বা উৎপাদন করা হয়েছে কি না, সেটি চুরি যাওয়া বা অন্য কোনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত কি না—তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সেটকে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহার থেকে বিরত রাখাও সম্ভব।
বিটিআরসি ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করেছিল। তবে তখন অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন করা আইএমইআইয়ের ফোন শনাক্ত করে ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পরে বিষয় টি আবার সামনে আসে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অবৈধ ফোনের কারণে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হওয়ার কথা উল্লেখ করে এনইআইআর পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে চিঠি দেয়। ২০২৫ সালে এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অনানুষ্ঠানিক ফোন বিক্রেতাদের বিক্ষোভ ও ব্যব সায়িক প্রতিবাদের পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা বাদ রেখেই এনইআইআর চালু করা হয়। ফলে তথ্যভান্ডার চালু থাকলেও অবৈধ সেট বন্ধের মূল ব্যবস্থা টি প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর হয়নি।
এবার ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এনইআইআর পুরোপুরি চালুর প্রস্তাব করা হয়। পরে বিটিআরসিও দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনুমোদন করে।প্রথম ধাপে নতুন করে দেশে আসা অবৈধ ফোন শনাক্ত ও নেট ওয়ার্কে সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে। তবে ফোনের নিবন্ধন বাতিল করে এক মালিকের কাছ থেকে অন্য মালিকের কাছে হস্তান্তরের সুবিধা বা ডি-রেজিস্ট্রেশন চালুর আগে সরকারের অনুমোদন নেওয়া হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এনইআইআর চালু হওয়ার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত সব অনানুষ্ঠানিক ফোন ১ জানুয়ারি থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। বিটিআরসির আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই তারিখের আগে নেটওয়ার্কে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। নতুন উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো, এরপর দেশে আসা অবৈধ সেট শনাক্ত করা এবং সেগুলো যাতে অননুমোদিতভাবে নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করা। তবে প্রথম ধাপেই ক্লোন করা সব ফোন বন্ধ করার সক্ষমতা থাকবে কি না, সে বিষয়ে সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে।
ব্যবসায়ীদের আপত্তির পেছনে কী স্বার্থ রয়েছে-
এনইআইআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদকে এক কথায় ব্যাখ্যা করলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। কারণ, মুঠোফোনের বাজারে সব ব্যবসায়ী একই ধরনের পণ্য বিক্রি করেন না। কেউ অনুমোদিত আমদানিকারকের কাছ থেকে বৈধ সেট কেনেন, কেউ দেশীয়ভাবে সংযোজিত ফোন বিক্রি করেন, আবার কেউ বিদেশ থেকে অনানুষ্ঠানিক পথে আসা নতুন, ব্যবহৃত বা পুনর্নির্মিত ফোনের বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
এনইআইআর কঠোরভাবে কার্যকর হলে অননুমোদিত পথে আমদানি করা সেট বিক্রি ও ব্যবহার করা কঠিন হবে। ফলে যে ব্যবসার বড় অংশ কম খরচে বিদেশি ফোন সংগ্রহ করে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করার ওপর নির্ভরশীল, সেই ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এড়িয়ে আসা ফোন বৈধ আমদানির পণ্যের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হলে ক্রেতারাও সেদিকে ঝুঁকবেন। এনইআইআর কার্যকর হলে এই দামের সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে কমে যাবে বা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। এখানেই অনানুষ্ঠানিক বাজারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থাটির সংঘাত তৈরি হচ্ছে।
তবে অনানুষ্ঠানিক ফোন মানেই নকল বা চুরি করা ফোন—এমন ধারণাও সঠিক নয়। অনানুষ্ঠানিক বাজারে আসল ব্র্যান্ডের এমন ফোনও থাকতে পারে, যেগুলো বিদেশ থেকে বৈধ আমদানি প্রক্রিয়া ও প্রযোজ্য কর পরিশোধের বাইরে দেশে এসেছে। আবার এই বাজারে ব্যবহৃত, পুনর্নির্মিত কিংবা অন্য দেশের জন্য তৈরি মডেলও বিক্রি হয়। ফোনের আসল ব্র্যান্ড হওয়া এবং সেটি বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি করা—দুটি পৃথক বিষয়।
ব্যবসায়ীরা এনইআইআর চালুর বিরোধিতা করে ব্যবহৃত ফোন আমদানির অনুমতি, মোট আমদানি কর কমানো, আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসায়িক জটিলতা দূর করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, দেশে ব্যবহৃত ফোনের বড় একটি ক্রেতাগোষ্ঠী রয়েছে এবং কম আয়ের মানুষের পক্ষে নতুন বৈধ ফোন কেনা সব সময় সম্ভব হয় না। সেই চাহিদা উপেক্ষা করে শুধু বিক্রি বন্ধ করলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সাধারণ ক্রেতারও বিকল্প কমে যাবে।
এই যুক্তির একটি বাস্তব দিক রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কর ফাঁকি দিয়ে বা শুল্ক এড়িয়ে পণ্য আমদানির অধিকার ব্যবসায়ীদের থাকা উচিত। বরং প্রশ্ন হলো, বৈধ পথে ফোন আমদানি ও বিক্রি এমন ব্যয়বহুল বা জটিল কেন হয়ে উঠেছে যে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক বাজারকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন?
বৈধ ফোনের দাম এত বেশি হওয়ার কারণ কী?
বৈধ ফোনের দাম বেশি হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হলো আমদানি পর্যায়ের শুল্ক-কর। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সর কার সম্পূর্ণ তৈরি মুঠোফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল। ওই ছাড়ের ফলে আমদানি পর্যায়ে মোট কার্যকর করভার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ছাড়টির মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। ১ জুলাই থেকে সেই সুবিধা আর বহাল না থাকায় প্রচলিত শুল্ক-কাঠামোয় মোট করভার আবার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে ফিরে যায়।
বাংলাদেশ কাস্টমসের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কার্যকর শুল্কতথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ তৈরি স্মার্টফোন আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ এবং অগ্রিম কর ৭ দশমিক ৫ শতাংশসহ মোট করভার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—এই হার শুল্কযোগ্য আমদানি মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়; খুচরা বিক্রয়মূল্য সরাসরি ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে, এমন নয়। করের হিসাব, আমদানি খরচ, পরিবহন, বিপণন ও বিক্রেতার মুনাফা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রেতার দিতে হয় যে দাম, তা নির্ধারিত হয়।
তবু আমদানির পর্যায়ে করের এই ভার বৈধ ফোনের বাজারদরে বড় প্রভাব ফেলে। কোনো ব্যবসায়ীকে যদি পণ্যের মূল্য ছাড়াও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের শুল্ক-কর দিতে হয়, তাহলে সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত বিক্রয়মূল্যে যুক্ত হয়। অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিক পথে আসা ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর পুরো পুরি পরিশোধ করা না হলে সেগুলো তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব। এর ফলে একই ব্র্যান্ডের একই বা কাছাকাছি মডেলের বৈধ ও অনানুষ্ঠা নিক ফোনের মধ্যে বড় দামের ব্যবধান তৈরি হয়।
সরকারের যুক্তি,স্থানীয়ভাবে ফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্পকে উৎসাহিত করতে আমদানি করা সম্পূর্ণ তৈরি ফোনের তুলনায় যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। এই নীতির ফলে দেশে উৎপাদিত বা সংযোজিত ফোন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু সব মডেল স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ফোনের অনেক মডেলে জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, বড় বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজার চাহিদার প্রয়োজন হয়। ফলে অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক উন্নত মডেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
এ ছাড়া বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপ, প্রসেসর, ডিসপ্লে ও ব্যাটারির দাম বাড়লে স্থানীয়ভাবে ফোন সংযোজন করলেও উৎপাদন খরচ বাড়ে। দেশীয় কারখানাগুলো এসব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অনেকগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করে। মুদ্রা বিনিময় হার, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়, বিপণন খরচ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার ব্যয়ও ফোনের চূড়ান্ত দামে প্রভাব ফেলে। তাই শুধু একটি কর কমালেই সব মডেলের দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার কর কমানোর সুবিধা পুরোপুরি ক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারির বিষয়।
ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ফোনের দাম বেশি কেন-
একই ব্র্যান্ডের অনেক ফোন ভারতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ক্রেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের। তবে সব মডেল, সংস্করণ ও সময়ের ক্ষেত্রেই ভারত সস্তা—এমন সাধারণীকরণ করা ঠিক হবে না। ফোনের র‍্যাম ও স্টোরেজ, স্থানীয় উৎপাদন, ছাড়, বিক্রয়চ্যানেল এবং ওয়ারেন্টির শর্ত ভেদে দামের পার্থক্য বদলে যায়।
ভারত ও বাংলাদেশের দামের ব্যবধান বোঝার জন্য শুধু দুই দেশের ভ্যাটের হার তুলনা করলেও চলবে না। ভারতে স্মার্টফোনের ওপর ১৮ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি প্রযোজ্য হলেও বাংলাদেশে সম্পূর্ণ তৈরি স্মার্টফোন আমদানির মোট করভার বর্তমানে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই দুটি হার সরাসরি এক ধরনের হিসাব নয়—ভারতের জিএসটি বিক্রয় ও সরবরাহ পর্যায়ের করব্যবস্থার অংশ, আর বাংলাদেশের ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ হলো আমদানি পর্যায়ের মোট করভার। তার পরও এই পার্থক্য দেখায়, সম্পূর্ণ তৈরি ফোন বৈধভাবে আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কর কাঠামো কতটা ভারী হয়ে উঠতে পারে।
এর পাশাপাশি রয়েছে উৎপাদনের পরিসর। ভারত বিশ্বের বড় স্মার্টফোন উৎপাদন ও সংযোজন কেন্দ্রগুলোর একটি। দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, স্থানীয় কারখানার উৎপাদনক্ষমতা, সরবরাহকারীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা প্রতি সেটের উৎপাদন ও বিতরণ খরচ কমাতে সহায়তা করে। কোনো নির্দিষ্ট মডেল যদি ভারতে বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হয়, তাহলে সেই মডেলের ক্ষেত্রে ভারতের বাজারে মূল্য সুবিধা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশেও স্যামসাং, শাওমি, ভিভো, অপোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বা সংযোজনের উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু বাজারের আকার তুলনামূলক ছোট, অনেক যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর এবং কারখানাগুলো সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারে না। অনানুষ্ঠানিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে বৈধভাবে উৎপাদিত ফোনের বিক্রি কমে গেলে কারখানার উৎপাদন-পরিসরও সীমিত থাকে। ফলে প্রতি সেটের খরচ কমানোর সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের বাজারে অনানুষ্ঠানিক ফোনের দাম কম হওয়ার পেছনে বৈধ আমদানির তুলনায় শুল্ক-কর এড়ানোর সুযোগ বড় কারণ হতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে মডেলভেদে আন্তর্জাতিক মূল্য, ফোনের সংস্করণ, ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বিক্রেতার মুনাফার পার্থক্যও থাকে। তাই শুধু ভারত থেকে ফোনের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একই মডেল, একই র‍্যাম-স্টোরেজ, একই ওয়ারেন্টি এবং একই বিক্রয়শর্ত তুলনা করা জরুরি।
শুল্ক কমানো হয়েছিল, তবু দাম কেন কমেনি-
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আমদানি শুল্ক কমানোর সময় সরকারের আশা ছিল, বৈধ ও অনানুষ্ঠানিক ফোনের দামের ব্যবধান কমবে এবং ক্রেতারা বৈধ পথে আনা ফোন কেনার বিষয়ে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল কতটা এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এরপর জুন শেষে সম্পূর্ণ তৈরি ফোন আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় জুলাইথেকে আবার করভার বেড়েছে। ফলে বছরের মধ্যে নীতির পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
এখানে সরকারের জন্য দুটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, আমদানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজন আছে। দ্বিতীয়ত, করের হার বেশি হলে বৈধ আমদানির দাম বেড়ে যায় এবং ক্রেতারা সস্তা অনানুষ্ঠানিক বাজারে চলে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বেশি হারে কর নির্ধারণ করে ও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পেতে ব্যর্থ হতে পারে, কারণ বৈধ পথে বিক্রি কমে গেলে করযোগ্য লেনদেনও কমে যায়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় ২০২৬ সালে স্মার্টফোন উৎপাদন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ ও দাম উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। ফলে শুল্ক-কর কমলেও কাঁচামাল ও যন্ত্রাং শের দাম বাড়লে ক্রেতারা সেই সুবিধা পুরোপুরি নাও পেতে পারেন। এই কারণেই ফোনের দাম কমানোর নীতি এককালীন শুল্কছাড়ে সীমাবদ্ধ রাখা যথেষ্ট নয়।আমদানির কর-কাঠামো, স্থানীয় উৎপাদনের সুবিধা, বৈদে শিক মুদ্রার ব্যয়, যন্ত্রাংশের দাম এবং বাজারে বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রয়োজন।
অনানুষ্ঠানিক বাজার কত বড়,আর ক্ষতিই বা কোথায়?
দেশের ফোনের বাজারে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের প্রকৃত অংশ কত, সে বিষয়ে বিভিন্ন শিল্প-অনুমান রয়েছে। সাম্প্রতিক শিল্পবিষয়ক প্রতিবেদনে কিছু বাজার-অনুমানে মোট হ্যান্ডসেট বিক্রির ৬০শতাংশের বেশি অনানুষ্ঠানিক বাজারের দখলে থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এটিকে সরকারি নিরীক্ষিত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। বাজারের আকার বোঝার জন্য বিটিআরসির উৎপাদন ও আমদানির তথ্য, বৈধ বিক্রির হিসাব এবং বাজার ভিত্তিক স্বাধীন সমীক্ষা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
অনানুষ্ঠানিক বাজার বড় হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। বৈধ আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদকদের একই দামের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়, কারণ তাঁদের শুল্ক-কর, অনুমোদন ও বিক্রয়োত্তর সেবার খরচ রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক ফোনের ক্ষেত্রে আবার ওয়ারেন্টি, মেরামত, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সহায়তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তবে সব অনানুষ্ঠানিক ফোনই নিম্নমানের—এমন নয়; ঝুঁকিটি নির্ভর করে ফোনটির প্রকৃত অবস্থা, আমদানির বৈধতা ও বিক্রেতার দেওয়া সেবার ওপর।
ব্যবহৃত বা পুনর্নির্মিত ফোনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা দরকার। এসব ফোনের কিছু ক্রেতার জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা নতুন ফোন কেনার সামর্থ্য রাখেন না। কিন্তু ফোনের ব্যাটারির অবস্থা, মেরামতের ইতিহাস, যন্ত্রাংশ বদলানো হয়েছে কি না, আগের মালিকের তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে কি না এবং ফোনটি চুরি যাওয়া কি না—এসব যাচাই না করে কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈধভাবে এসব ফোন আমদানির পথ না থাকলে বাজারের চাহিদা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে আরও কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
ফোন নির্মাতাদের দাবি, অনানুষ্ঠানিক বাজার স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাম্প্রতিক বিটিআরসি-ভিত্তিক পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ পতনের জন্য অনানুষ্ঠানিক বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কারখানার উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাও দায়ী বলে শিল্পখাতের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু শুল্ক ফাঁকির নয়; দেশের উৎপাদনশিল্প, বাজারনীতি ও ক্রেতার সামর্থ্য—সবই এর সঙ্গে যুক্ত।
সমাধান কি শুধু অবৈধ ফোন বন্ধ করা-
এনইআইআর কার্যকরভাবে চালু করা প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু এটি যেন ভোক্তার ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে না দেয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত বৈধ ফোনের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য কার্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করা। সম্পূর্ণ তৈরি ফোন আমদানির করভার পুনর্মূল্যায়ন, স্থানীয় উৎপাদনের উপযোগী যন্ত্রাংশের শুল্ক সুবিধা এবং বৈধ আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা—এই তিনটি বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, শুল্ক কমালে সেই সুবিধা ক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই মডেলের ফোনের আমদানি ব্যয়, কর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কী ধরনের ব্যবধান রয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা যেতে পারে। মূল্যতালিকা ও ছাড়ের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে শুল্কছাড়ের সুযোগে অযৌক্তিক মুনাফা বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা বোঝা সহজ হবে। তবে উৎপাদন খরচ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন বিবেচনা না করে সব ফোনের জন্য একই দাম নির্ধারণ করাও বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।
তৃতীয়ত, ব্যবহৃত ও পুনর্নির্মিত ফোনের চাহিদাকে অবৈধ বাজারের হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিয়ন্ত্রিত বৈধ আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট মান যাচাই, ফোনের প্রকৃত অবস্থা ও পুনর্নির্মাণের তথ্য প্রকাশ, চুরি যাওয়া ফোন শনাক্তকরণ, আইএমইআই যাচাই, সীমিত ও স্পষ্ট ওয়ারেন্টি এবং বিক্রেতার দায়বদ্ধতার শর্ত নির্ধারণ করা গেলে ক্রেতা সুরক্ষা বজায় রেখেও সাশ্রয়ী ফোনের বাজার গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। এমন ব্যবস্থা চালু করা হবে কি না, তা অবশ্যই সরকারের নীতি ও আইনগত কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে।
চতুর্থত, এনইআইআর কার্যকরের আগে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করতে হবে। কোন ফোন বৈধ, কোন কাগজপত্র লাগবে, বিদেশ থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফোন আনলে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, আগে থেকে ব্যবহৃত ফোনের ক্ষেত্রে কী সুবিধা থাকবে এবং ভুলভাবে কোনো ফোন অবৈধ হিসেবে শনাক্ত হলে অভিযোগ জানানোর পথ কী—এসব প্রশ্নের জবাব সহজ ভাষায় জানানো জরুরি। বৈধ ফোন বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা পুরোনো মজুতের জন্যও ন্যায্য ও স্বচ্ছ নিয়ম থাকা দরকার।
সবশেষে, আইএমইআইভিত্তিক ব্যবস্থার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্লোন করা নম্বর, ভুল নিবন্ধন বা তথ্যের অসংগতির কারণে বৈধ ক্রেতার ফোন যেন অন্যায়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। ফোন ব্লক করার সিদ্ধান্ত, তার কারণ এবং আপিলের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া উচিত। অপরাধ মূলক কাজে ব্যবহৃত ফোন শনাক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি ভুল শনাক্তকরণের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দাম সাশ্রয়ী না হলে এনইআইআরের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে-
এনইআইআর বাস্তবায়নের পক্ষে যুক্তি রয়েছে—এটি অবৈধ আমদানি শনাক্ত করতে, রাজস্ব ফাঁকি কমাতে এবং ফোনের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু শুধু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করলেই অনানুষ্ঠানিক বাজারের মূল কারণ দূর হবে না। বৈধ ফোন যদি ক্রেতার সামর্থ্যের বাইরে থেকে যায়, আর অনানুষ্ঠানিক সেট উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে পাওয়া যায়, তাহলে ক্রেতাদের কাছে সস্তা বিকল্পের আক র্ষণ থেকেই যাবে। তাতে একদিকে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অন্যদিকে অবৈধ ফোনের সরবরাহকারীরা নতুন পথ খুঁজে নিতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের আপত্তির মধ্যেও তাই দুটি দিক আলাদা করে দেখা দরকার। কর ফাঁকি বা অবৈধ আমদানি চালু রাখার স্বার্থে এনইআইআর ঠেকানোর কোনো ন্যায্যতা নেই। কিন্তু বৈধ আমদানি ব্যয়বহুল, ব্যবহৃত ফোনের চাহিদা বড় এবং ছোট ব্যবসার জন্য নিয়ম মেনে চলা কঠিন হলে সেই কাঠামোগত সমস্যার সমাধানও সরকারের দায়িত্বের অংশ। শুধু বাধা দেওয়া হয়েছে বলে সব ব্যবসায়ীকে একইভাবে অভিযুক্ত করা যাবে না; আবার ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তিতে আইন প্রয়োগ স্থগিত রাখাও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।
বাংলাদেশে বৈধ ফোনের দাম ভারতের মতো প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কাছাকাছি আনা, স্থানীয় উৎপাদনের খরচ কমানো, শুল্কনীতিতে স্থিতিশী লতা তৈরি এবং অনানুষ্ঠানিক বাজারের জন্য বৈধ বিকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ একসঙ্গে নিতে হবে। সরকারের কর-রাজস্বের স্বার্থ, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ ক্রেতার সামর্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য না এলে এনইআইআর চালুর তৃতীয় চেষ্টাও প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে। অবৈধ ফোন বন্ধ করার ব্যবস্থা তখনই টেকসই হবে, যখন বৈধ ফোন কেনা হবে ক্রেতার কাছে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় বিকল্প।
তথ্যসূত্র: বিটিআরসি, বাংলাদেশ কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো, ভারতের জিএসটি কাউন্সিল
           ইকবাল মুন্না
      সাংবাদিক ও নির্মাতা
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa