বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা। আর বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক। সাজেক হলো ভারত মিজোরাম ত্রিপুরা রাজ্যের অতি নিকটে। যদিও সাজেক রাঙামাটি জেলার মধ্যে পড়েছে। কিন্তু পর্যটকদের যাতায়াত হলো খাগড়াছড়ি জেলার উপর দিয়ে। বিনোদনের সকল কর্মকান্ড ও ভ্রমণ পিপাসুদের আড্ডার জায়গা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে। অথচঃ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্ভী হচ্ছে খাগড়াছড়িাবাসী।
প্রতি বছর শীত মৌসমে সাজেক ভ্যালিতে দেশের দূর-দূরান্ত হতে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। অনেক সময় দেখা যায় কটেজ রিসোর্টে জায়গা হয় না। পর্যটকদের থাকতে হয় খোলা আকাশের নিচে। সে সমস্যা এক-দুই দিনের জন্য হতে পারে। কিন্তু এই সমস্যার জন্য তো পরিবেশ নষ্ট করে যত্রতত্র কটেজ রিসোর্ট গড়ে তোলা যায় না।
সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যে ভাবে কটেজ রিসোর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে সাজেক ভ্যালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্ষ ও র্নিমল আবহাওয়া নষ্ট করা হচ্ছে। যে যার মত করে প্রতিনিয়তই অপরিকল্পিত ভাবে কটেজ ও রিসোর্ট নির্মিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ২-৪ বছরের মধ্যে সাজেকে আর কোন পর্যটক যাবে না। সাজেকে আগে যে ভিউ ও সুন্দর্ষ ছিল সেটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সাজেক সামান্য একটি জায়গা ঢাকা-চট্টগ্রামের মত ঘন বসতি তৈরি হচ্ছে। আগে কটেজ রিসোর্ট থেকেই মেঘের রাজ্য দেখা যেত এখন আর সে আমেজ নেই।
সাজেকের স্থানীয়রা বলেন, আগের সাজেক এখন আর নেই। যে যার মত করে অপরিকল্পিত ভাবে কটেজ রিসোর্ট নির্মাণ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে জমি ভাড়া নিয়ে হোটেল-মোডেল,রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করছে। প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ না থাকায় অনেকে মনগড়া ভাবে রিসোর্ট কটেজ নির্মাণ করছে। যে সকল রিসোর্ট কটেজ নির্মাণ হচ্ছে একটারও সরকারি অনুমাদন বা নকশা নাই। যার কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এসব কটেজ রিসোর্টগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


কুমিল্লা থেকে আগত পর্যটক দিদারুল আলম বলেন, বিগত ২-৩ বছর আগে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে সাজেকে বেড়াতে এসেছিলেন। তখনকার পরিবেশ আর বর্তমান পরিবেশ অনেক পার্থক্য। সাজেকে আগে যে, দৃশ্য ও প্রাকৃতিক সুন্দর্ষ ছিল সে এখন আর নেই। সাজেক ঘন বসতি হয়ে যাচ্ছে। আগের যে ন্যাচারেল ভিউ ছিল সেটা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। সাজেকে পর্যটকদের জন্য কিছুই করা হয়নি। সরকারি বা বেসরকারি কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় পর্যটক পিপাসুরা সাজেক ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু বলেন,সাজেকে যে হারে অপরিকল্পিত ভাবে কটেজ ও রিসোর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। তাতে সাজেকের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সাজেক ভ্যালি যেহেতু জেলা পরিষদের অধীনে তাই পরিষদের ক্ষমতা বলে কটেজ রিসোর্ট মালিকদের একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসবো। যদি কেউ আইন মেনে না চলে তাহলে ওই কটেজ রিসোর্ট মালিকের বিরুদ্বে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাজেক ভ্যালিকে দেশের অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হবে।তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিকাশে নজরদারি রয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, সাজেকের কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণ এবং সাজেকের যাবতীয় কিছু দেখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ। আর কটেজ রিসোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ। এব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের কোন কিছুই করার নেই।