রাঙামাটি,বাঘাইছড়িও সাজেক প্রতিনিধিঃ-সাজেকে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে এবং এর আগে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা,লাঠিচার্জ ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি-দোকানপাটে ভাঙচুরের প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অর্ধদিবস সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।আজ শনিবার সকাল থেকে অবরোধ চলাকালীন রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল ও নৌপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, জেলা শহর থেকে খাগড়াছড়ি গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাকি সব সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আধা বেলা যারা অবরোধ ডেকেছে এই সংগঠনের আবিভাব নতুন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এধরনের ভুয়া সংগঠন পাহাড়ে অহরহ।কেউ ইউপিডিএফ সমর্থক আবার কেউ জেএসএস সমর্থক বলে জানা গেছে।মূলতঃ তারা পাহাড়কে অশান্ত রাখতে ক্ষণে ক্ষণে হরতাল ও অবরোধ ডাকে। এসব সংগঠনগুলো বন্ধ করতে সরকারের কোন পদক্ষেপ বা ভূমিকা নেই। যার কারনে পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
এদিকে রাঙামাটি জেলার কুতুকছড়ি, ঘিলাছড়ি,ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ১০নম্বর, ১৮কিলো,বাঘাইহাট,দীঘিনালা এবং খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সফল করতে দেখা গেছে। অন্য দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২ জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। তবে অবরোধ চলাকালে এখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। খাগড়াছড়ি ব্যতিত সব রোডে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। লঞ্চ চলা অব্যাহত রয়েছে। শহরের মধ্যে সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। এই অবরোধে ২ জেলায় তেমন কোন প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি।
মানিকছড়ি ও কুতুকছড়ি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনকারীদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার রাখা হয়েছে। অবরোধ চলাকালে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি
অবরোধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, অবরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও জোরদার টহলের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবরোধ পালিত হলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে জনভোগান্তি ও জরুরি সেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অবরোধ চলাকালে জরুরি সেবাসমূহকে এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী পরিবহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অন্যান্য দিনের মতোই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করেছে।
এদিকে রাঙামাটি সাজেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়ে শন’-এর যৌথ উদ্যোগে ঘোষিত তিন দফা দাবির অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। বর্তমানে সাজেক ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাজেকে অবস্থানরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
রাঙামাটি জেলার দুর্গম সাজেক ও বাঘাইহাট সড়কে সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ টহল দিতে দেখা গেছে। মারিশ্যা জোন ২৭ বিজিবি’র কমান্ডার লেঃ কর্ণেল জাহিদুল ইসলাম পিএসসি বলেন, সাজেকবাসীর জান-মালের নিরাপত্তায় বিজিবি কাজ করছে। সাজেকে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঠাই নেই। ইউপিডিএফের ইন্দনে সাধরণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সন্ত্রাসী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সাজেক ঘিরে এই অনিদিষ্টকালের অবরোধও আধা বেলা অবরোধে পর্যটন ভ্যালি সাজেকের ব্যবসা বাণিজ্যের চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে।ব্যবসায়িরা বলছেন,এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাজেক জনশূন্য হয়ে পড়বে। সাজেকের পর্যটন ব্যবসায়ি ও স্থানীয়রা বলছেন গত ১০-১২ দিনে এ অবরোধ ঘটনায় সাজেক পর্যটন শিল্পের উপর প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এর দায়-ভার কে নেবেন? ব্যবসায়ি ও সচেতন মহল বলছেন, এর দায়-ভার ইউপিডিএফকেই নিতে হবে।

মন্তব্য করুন