‎চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলাধীন জংগল সলিমপুর আলী নগরের দেড়লাখ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানিমূলক মামলা হামলা, ধর পাকড়াও এবং উচ্ছেদ আতংকে দিনতিপাত করছে। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ করেছেন আলী নগর স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল ১১টায় আলী নগর এলাকার প্রবেশ পথে শত শত নারী পুরুষ একত্রি হয়ে তাদের ‎অধিকার ফিরে পেতে এই প্রতিবাদ করা হয়।

‎‎স্থানীয়রা জানান,সীতাকুন্ডের জংগল সলিমপুর আলী নগর এলাকায় নিরাপত্তার বাহিনী মোতায়েন বা প্রবেশ করার পর হতে একের পর এক অঘটন ঘটেই যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন বা প্রবেশের আগে আমরা এখানে নিরাপদে ছিলাম। যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশ করলো তার পর হতে এখানে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। প্রশাসন গণহারে স্থানীয় নিরীহ অসহায় লোকজনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক নিরীহ অসহায় মানুষ জেলে আছেন তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

‎‎আলী নগর এলাকায় স্থানীয় লোকজন জানান, আলী নগরে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মানুষের ক্রয়কৃত জমি দখল করে সেখানে পুলিশ একাডেমি,কারাগার ও এসআরবি ক্যাম্প স্থাপন রহস্যজনক।আবাসিক এলাকা ও স্কুলের ভবন দখল করে কি ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তা ‎আমাদের বোধগম্য নহে। তারেক রহমান সরকার ‎জনগণের সরকার যদি হয়ে থাকে তাহলে অসহায় ও ভূমিহীন লোকজনদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে। ‎প্রকৃতপক্ষে সরকারের জায়গা লাগলে জায়গা নেন তবে জনগণকে হয়রানি করে কেন? আলী নগরের ‎এত সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট করা হচ্ছে কোন কারনে,‎আসলে পুলিশ,এসআরবি ও বিজিবি কি চায়? উচ্চ ‎পর্যায়ের প্রশাসন কেন চুপ করে আছেন? জনগণ যদি না বাঁচে তাহলে রাষ্টের কি দাম আছে? চট্টগ্রামের ডিসি ও এসপি মাসুদ আলী নগর নিয়ে কি ভাবছেন? আসলে কি জমি দখল নাকি শান্তি ও ‎নিরাপত্তা?

‎শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) জুমার নামাজ আদায়ের আগে আলী নগর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন,ইদানিং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আছে এবং স্থানীয় দেরও তৎপরতা দেখা গেছে। আমার কোন স্বার্থ নাই। আপনাদের স্বার্থ আছে সাথে সরকারের ও স্বার্থ আছে। সরকার আপনাদের জন্য রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন করা হচ্ছে। তবে এখানে কেউ যেন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে না পারে সে জন্য আমরা এখানে আছি। ‎আপনাদের নিরাপত্তা দিতেই আমরা আপনাদের পাশে আছি। বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়ে সরকার আপনার জায়গাটা নিয়ে নেবে। কারও অবৈধ পরিকল্পনায় কান দেবেন না। এখানে স্কুল হবে কলেজ হবে। মসজিদ মাদ্রাসা হবে। এখানে দিন দিন উন্নয়ন করা হবে। ‎পুলিশ সুপার আরো বলেন,যারা সরকারি জায়গা বিক্রি করেছে তারা দোষী,তেমনি যারা ক্রয় করেছে তারাও দোষী। তবে সরকার বিষয়টি নিশ্চিয় বিবেচনা করবেন। এখানে কাউকে উচ্ছেদের ভয়ে ‎আতংকিত না হওয়ার আহবান জানান তিনি।

‎‎