সাজেক (বাঘাইছড়ি) –মেঘের ভেলা, পাহাড়ের সবুজ আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য—সাজেকের এই পরিচিতি টানে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। কিন্তু পর্যটনের এই সম্ভাবনাময় জনপদে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার ও বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সাজেকের সৌন্দর্য, সুনাম ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় মাদক প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ জোরদারের দাবি উঠেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও জীবনযাপনেরও পরিচায়ক। প্রতিদিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরিবারসহ পর্যটক এবং নানা পেশার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা ধরে রাখতে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবহার, বিক্রি ও সরবরাহ প্রতিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা।
১৬৭ নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাংগা লুসাই বলেন, সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুনাম ধরে রাখতে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অনিত্য ত্রিপুরা বলেন, মাদক থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাজেকের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
রুইলুইপাড়া ত্রিপুরা যুবসমাজের সভাপতি খুশীরাম ত্রিপুরা বলেন, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন। যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে সাজেককে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা কাজ করতে চাই।
এদিকে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি,তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাজেকের পরিচয় তার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের আতিথেয়তা। এই পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে মাদক প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন